১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থাইল্যান্ডে ট্রাকচাপায় ৮ বৌদ্ধ ভিক্ষু নিহত

  • ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট সময় ০১:৩১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩৮ বার পড়া হয়েছে

থাইল্যান্ডে একটি ১১ বছর বয়সী শিশু বিনা অনুমতিতে তার বাবা-মায়ের মালিকানাধীন পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিল। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি বৌদ্ধভিক্ষুদের শোভাযাত্রায় ধাক্কা দেয়। এতে আটজন ভিক্ষু নিহত হন।

আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আরও ২০ জনের বেশি ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুকদাহান প্রদেশে। ৩৫ জন ভিক্ষু ও পাঁচজন সাধারণ অনুসারী তীর্থযাত্রার অংশ হিসেবে সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা অনলাইনে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। সেখানে ফ্রা সোমপং নামে এক ভিক্ষু ওই দুর্ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম একটি পিকআপ ট্রাক চালিয়ে একটি ছেলে আমাদের দিকে আসছে। তখন আমি “বুদ্ধ, বুদ্ধ” জপ করছিলাম।’

‘হঠাৎ ট্রাকটি গতিবেগ বাড়াল এবং আমাদের ওপর আছড়ে পড়ল’, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সৌভাগ্যক্রমে আরেক ভিক্ষু ও আমি সময়মতো সরে যেতে পেরেছিলাম।’

‘সারির শুরুর ডিকে থাকা নয়জন ভিক্ষু প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু বাকিরা ট্রাকের আঘাতে ছিটকে পড়েন’, যোগ করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই পাঁচজন ভিক্ষুর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরও তিনজন মারা যান।

পাশের একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভিক্ষুরা সড়ক ধরে হেঁটে যাচ্ছেন। এ সময় কয়েকটি যানবাহন তাদের পাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর বিকট শব্দে সংঘর্ষের পর শোভাযাত্রাটি থেমে যায়।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুকদাহান হাসপাতালে ভর্তি চারজন ভিক্ষুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বাকিদের সামান্য আঘাতের জন্য চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়াই বাবা-মায়ের পিকআপ ট্রাক নিয়ে শিশুটি বের হয়েছিল। ট্রাক চালানোর সময় সে নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি ভিক্ষুদের ওপর উঠে যায়।

মুকদাহান প্রদেশের পুলিশ প্রধান মেজর জেনারেল পাইরোজ থাইফুতসা সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্দেহভাজন আসামী একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু। দুর্ঘটনার কারণ জানতে গাড়িটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুটির বাবা-মাকে ডাকা হয়েছে। তার দেখভালের দায়িত্ব কার, তা চিহ্নিত করার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।’

মুকদাহান সিটি পুলিশের প্রধান প্রায়ুত রুয়ানথংকাম এএফপিকে ফোনে জানান, পিকআপ ট্রাক চালক একজন ছেলে এবং তার বয়স ১১।

থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র।

গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা সংরক্ষণ ও প্রচারের দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত।

তারা প্রায়ই জনসমক্ষে ধর্মীয় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাদেরকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দান গ্রহণ করতে দেখা যায়।

মুকদাহানের গভর্নর ওয়ারায়ান বুন্নারাত বলেন, এই ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সবার জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।

থাইল্যান্ডে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

অতিরিক্ত গতিবেগে ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং দুর্বল আইন প্রয়োগ এর প্রধান কারণ।

গভর্নর বুন্নারাত বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছি। এই ঘটনা শুধু আমাদের প্রদেশে নয়, সবার জন্যই শিক্ষণীয় হওয়া উচিত।’

‘আমার মতে, সংশ্লিষ্ট সবাইকে, বিশেষ করে অভিভাবকদের, এ বিষয়টিতে অগ্রগামী ভূমিকায় থাকতে হবে। কারণ এমন ঘটনা কেউই দেখতে চায় না’, যোগ করেন তিনি।

শেয়ার করুন
আরও সংবাদ দেখুন

থাইল্যান্ডে ট্রাকচাপায় ৮ বৌদ্ধ ভিক্ষু নিহত

আপডেট সময় ০১:৩১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

থাইল্যান্ডে একটি ১১ বছর বয়সী শিশু বিনা অনুমতিতে তার বাবা-মায়ের মালিকানাধীন পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিল। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি বৌদ্ধভিক্ষুদের শোভাযাত্রায় ধাক্কা দেয়। এতে আটজন ভিক্ষু নিহত হন।

আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আরও ২০ জনের বেশি ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুকদাহান প্রদেশে। ৩৫ জন ভিক্ষু ও পাঁচজন সাধারণ অনুসারী তীর্থযাত্রার অংশ হিসেবে সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা অনলাইনে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। সেখানে ফ্রা সোমপং নামে এক ভিক্ষু ওই দুর্ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম একটি পিকআপ ট্রাক চালিয়ে একটি ছেলে আমাদের দিকে আসছে। তখন আমি “বুদ্ধ, বুদ্ধ” জপ করছিলাম।’

‘হঠাৎ ট্রাকটি গতিবেগ বাড়াল এবং আমাদের ওপর আছড়ে পড়ল’, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সৌভাগ্যক্রমে আরেক ভিক্ষু ও আমি সময়মতো সরে যেতে পেরেছিলাম।’

‘সারির শুরুর ডিকে থাকা নয়জন ভিক্ষু প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু বাকিরা ট্রাকের আঘাতে ছিটকে পড়েন’, যোগ করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই পাঁচজন ভিক্ষুর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরও তিনজন মারা যান।

পাশের একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভিক্ষুরা সড়ক ধরে হেঁটে যাচ্ছেন। এ সময় কয়েকটি যানবাহন তাদের পাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর বিকট শব্দে সংঘর্ষের পর শোভাযাত্রাটি থেমে যায়।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুকদাহান হাসপাতালে ভর্তি চারজন ভিক্ষুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বাকিদের সামান্য আঘাতের জন্য চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়াই বাবা-মায়ের পিকআপ ট্রাক নিয়ে শিশুটি বের হয়েছিল। ট্রাক চালানোর সময় সে নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি ভিক্ষুদের ওপর উঠে যায়।

মুকদাহান প্রদেশের পুলিশ প্রধান মেজর জেনারেল পাইরোজ থাইফুতসা সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্দেহভাজন আসামী একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু। দুর্ঘটনার কারণ জানতে গাড়িটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুটির বাবা-মাকে ডাকা হয়েছে। তার দেখভালের দায়িত্ব কার, তা চিহ্নিত করার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।’

মুকদাহান সিটি পুলিশের প্রধান প্রায়ুত রুয়ানথংকাম এএফপিকে ফোনে জানান, পিকআপ ট্রাক চালক একজন ছেলে এবং তার বয়স ১১।

থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র।

গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা সংরক্ষণ ও প্রচারের দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত।

তারা প্রায়ই জনসমক্ষে ধর্মীয় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তাদেরকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দান গ্রহণ করতে দেখা যায়।

মুকদাহানের গভর্নর ওয়ারায়ান বুন্নারাত বলেন, এই ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সবার জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।

থাইল্যান্ডে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

অতিরিক্ত গতিবেগে ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং দুর্বল আইন প্রয়োগ এর প্রধান কারণ।

গভর্নর বুন্নারাত বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছি। এই ঘটনা শুধু আমাদের প্রদেশে নয়, সবার জন্যই শিক্ষণীয় হওয়া উচিত।’

‘আমার মতে, সংশ্লিষ্ট সবাইকে, বিশেষ করে অভিভাবকদের, এ বিষয়টিতে অগ্রগামী ভূমিকায় থাকতে হবে। কারণ এমন ঘটনা কেউই দেখতে চায় না’, যোগ করেন তিনি।