নানা আনুষ্ঠা্ঠানিকতার মধ্যে ফ্রান্সের অদুরে কুশলায়ন বুড্ডিস্ট মেডিটেশন সেন্টারের দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১নভেম্বর ) বিকেলে দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব বিহারের নিকটবর্তী সালন দো সাবরিনা মিলনায়তনে কুশলায়ন বুড্ডিস্ট মেডিটেশন সেন্টারের দায়ক-দায়িকা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সকালে পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর অষ্টপরিষ্কার দানসহ সংঘদান, কঠিন চীবর দান, কল্পতরু দান ও পিণ্ডদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। দুপুরে শুরু হয় ধর্মীয় দেশনা।
কঠিন চীবর দানসভায় সভাপতিত্ব করেন ফ্রান্স বুদ্ধগয়া প্রজ্ঞাবিহারের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথের, প্রধান ধর্মালোচক ছিলেন স্পেন সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত কুশলায়ন থের,বিশেষ ধর্মালোচক ছিলেন লন্ডন বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সুমনাশ্রী থের, বিশেষ অতিথি ছিলেন ফ্রান্স বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট মেডিটেশন সেন্টারের অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রিয়রক্ষিত থের, উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কুশলায়ন বুড্ডিস্ট মেডিটেশন সেন্টারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত জ্যোতিসার ভিক্ষু। অন্যান্যদের মধ্যে ভদন্ত সংঘপাল থের, ভদন্ত আনন্দরত্ন থের, ভদন্ত অপ্রমাদ ভিক্ষু, ভিক্ষুনী সংঘামিত্রা থেরি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুপম বড়ুয়া অনু ও প্রীতি কণা বড়ুয়ার সঞ্চালনায় পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন প্রমোতোষ বড়ুয়া, স্বাগত বক্তব্য দেন সুমেষ বড়ুয়া, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রকি বড়ুয়া।

বক্তারা বলেন, চীবর দান ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বৌদ্ধদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দান জন্ম-জন্মান্তরে সুফল প্রদায়ী। প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে বছরে একবার চীবর দান করা হয়। এদিন বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ গৃহীরা ভিক্ষু সংঘকে চীবর দান করেন। ভিক্ষু সংঘও তাদের বিনয়-বিধানের সব নিয়ম অক্ষুণ্ন রেখে পরিধেয় বস্ত্র হিসেবে এ চীবর গ্রহণ ও ব্যবহার করে। কঠিন চীবর দানের বহুধা গুণের কথা স্মরণে রেখে প্রত্যেক বৌদ্ধ জীবনে অন্তত একবার হলেও চীবর দান করার মানসিকতা পোষণ করেন।
অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত কয়েকটি দেশের নাগরিকেরা এ উৎসবে অংশ নেন।

সবশেষে শর্মী মুৎসুদ্দি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে বাংলাদেশ থেকে আগত বেতার ও টিভি শিল্পী শরণ বড়ুয়া সংগীত পরিবেশন করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট : 








