ফানুস উৎসবে আকাশ রাঙানোর পর এবার কল্পজাহাজ ভাসানোর আনন্দে মেতেছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়। প্রবারণা উপলক্ষে রামুর বাঁকখালী নদীতে চলে কল্পজাহাজ ভাসানোর উৎসব। অপূর্ব কারুকাজে তৈরি একেকটি দৃষ্টিনন্দন জাহাজ নৌকায় বসিয়ে ভাসানো হয় নদীতে। সেই জাহাজে চলে শত শত মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। নদীর দুইপাড়েই উৎসব–আনন্দে মাতে হাজারো নর–নারী।
আজ মঙ্গলবার ৭ অক্টোবর কক্সবাজারের রামুর বাঁকখালী নদীর পূর্ব রাজারকুল ঘাটে আয়োজন করা হয় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কল্প জাহাজ ভাসানো উৎসব। দুপুরে শুরু হওয়া এ উৎসব বিকেল গড়াতেই বর্ণিল হয়ে ওঠে।
বিকেল ৫টার দিকে জাহাজ ভাসানো উৎসবের উদ্বোধন করেন অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। রামুর ঐতিহ্যময় জাহাজ ভাসা অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। প্রধান বক্তা ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি সাঈদুজ্জামান চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ ফোরামের আহ্বায়ক সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফানুল চৌধুরী, রামু থানার ওসি আরিফুর রহমান, রামু উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল বশর বাবু প্রমুখ ।আশীর্বাদক ছিলেন রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহারের পরিচালক ভদন্ত কে শ্রী জ্যোতিসেন মহাথের।
রামু কেন্দ্রীয় প্রবারণা ও জাহাজ ভাসা উৎসব উৎযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মিথুন বড়ুয়া এতে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনায় ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সত্যজিৎ বড়ুয়া।
কল্পজাহাজ ভাসা দেখতে নদীর দুপাড়ে জনতা ভিড় জমায়। নানা ধর্মের মানুষ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।
এসময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে এই দেশের পথচলা। আসুন- ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যকে আমরা লালন করি। আগামীও আমরা এটা লালন করতে থাকবো। তবে কোন দুষ্টু চক্র যাতে আমাদের সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।’
আ ফ ম খালিদ হোসেন আরও বলেন, ‘শুধু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ই নয়, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষই অংশ নেয় এই উৎসবে। যা পরিণত হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বড় উদাহরণ। এই উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক মিলনমেলা। এটি আমাদের ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতির প্রতীক।’
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে মহামতি বুদ্ধকে উদ্দেশ্য করে এসব প্রতীকী জাহাজ ভাসানো হয়। নদীতে ভাসানো হয় দৃষ্টিনন্দন কারুকাজে তৈরি ৭টি জাহাজ। প্রতিটি জাহাজ তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় এক মাস।
ডেস্ক রিপোর্ট : 









