০৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রস্তাবিত“বৌদ্ধ পারিবারিক আইন” এর খসড়া বাতিলের দাবীতে চট্টগ্রাম মানববন্ধন

প্রস্তাবিত “বৌদ্ধ পারিবারিক আইন” এর খসড়া বাতিলের দাবীতে আজ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে  মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার  সকাল সাড়ে ৯ ঘটিকার সময় “বাংলাদেশ সম্মিলিত বৌদ্ধ” সমাজের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা  অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বিভিন্ন সচেতন বৌদ্ধ সম্প্রদায় ভিন্ন ভিন্ন ব্যানারে মানববন্ধনে অংশ নেন ।

আইনজীবি সুজন কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে, অধ্যাপক ড.জিনবোধি ভিক্ষু,  স্থপতি বিজয় তালুকদার, ডাঃ পরিতোষ বড়ুয়া, পরিবেশবাদী সুজন বড়ূয়া, অর্পিতা বড়ুয়া, লায়ন সমীরন বড়ুয়া , শিক্ষক বিশু কুমার বড়ুয়া,ব্যাংকার রাজু বড়ুয়া, তন্ময় বড়ুয়া  ,অনিন্দ্য বড়ুয়া , আশুতোষ বড়ুয়া ,রোকেল বড়ুয়া , শুভ্রা বড়ুয়া, নির্মল কান্তি বড়ুয়া, রুপনা বড়ুয়া, রাজু বড়ুয়া, জনি বড়ুয়া, অর্পিতা বড়ুয়া, ইশা বড়ুয়া, শৈলি বড়ুয়া, সুজন বড়ুয়া, সুজন বড়ুয়া মামুন, সবুজ বড়ুয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, এই আইন টি একটি গাঁজাখুরি ও গোঁজামিল আইন। এই আইনে বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রধান গ্রন্থ ত্রিপিটক ও হাজার হাজার বছর ধরে বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি এবং প্রথাগত আইন কিছুই অনুসরণ করা হয়নি।

বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের বাদ দিয়ে আমরা কোন বৌদ্ধ পারিবারিক আইন চাইনা। জাতিকে অন্ধকারে রেখে আশংকায় রেখে আমরা কোন বৌদ্ধ পারিবারিক আইন চাইনা। সারাবিশ্বে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।  বৌদ্ধ পারিবারিক আইন নামের গোঁজামিল আইন দিয়ে সারাদেশের বৌদ্ধদেরকে সহিংস করে তুলতে চায়। নিজেদের মধ্যে হানাহানি ও মামলা দিয়ে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশে বৌদ্ধদের বাস্তুচ্যুত করতে চায়। লায়ন সমীরন বড়ুয়া বলেন, যাতে করে বৌদ্ধ ধর্মীয় স্বত্বাকে উপেক্ষা করা হয়েছে আর ভিন্ন ধর্মীয় কৃষ্টি কালচারকে যুক্ত করা হয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, এই আইন দেশে একবার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে আর বৌদ্ধ সমাজের হাজার বছরের শান্তির পরিবেশ ভূলুন্ঠিত হবে এবং দেশে বৌদ্ধদের অস্থিত্ব স্বল্পসময়ে বিলীন হয়ে যাবে। সরকার দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। আর এই দেশের বৌদ্ধদের জীবনাচরণকে দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে বৌদ্ধ সুরক্ষা আইন করতে পারেন। সমতলীয় ও পাহাড়ী বৌদ্ধদের বিভাজন করে বৌদ্ধ কৃষ্টি কালচারকে ভূলুন্ঠিত করে ভিন্ন ধর্মীয় চেতনায় উদ্ভদ্ধ হয়ে যে আইনটি প্রস্তাব করা হয়েছে সেই আইন দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে স্বল্প সময়ে বাস্তুহারা করবে।  দেশে আমরা বৌদ্ধরা বৌদ্ধ সমাজে বিদ্যমান বৌদ্ধ প্রথাগত নিয়ম ও রীতিনীতি মেনে অন্যান্য ধর্মের চেয়ে অনেক শান্তিতে আছি। বিদ্যমান বৌদ্ধ প্রচলিত নিয়মে কোন সমাজে হানাহানি, অন্যান্য ধর্মের সমাজের চেয়ে বৌদ্ধ সমাজে মামলার সংখ্যাও নগন্য। তাই আমাদের নতুন কোন আইন প্রয়োজন নাই।

মানববন্ধনে উক্ত প্রস্তাবিত ও বিতর্কিত আইনটি বাতিল করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান বক্তারা।

শেয়ার করুন
আরও সংবাদ দেখুন

সীবলী কো-অপারেটিভ সোসাইটি’র শুভ উদ্ভোধন

প্রস্তাবিত“বৌদ্ধ পারিবারিক আইন” এর খসড়া বাতিলের দাবীতে চট্টগ্রাম মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৬:২৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৩

প্রস্তাবিত “বৌদ্ধ পারিবারিক আইন” এর খসড়া বাতিলের দাবীতে আজ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে  মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার  সকাল সাড়ে ৯ ঘটিকার সময় “বাংলাদেশ সম্মিলিত বৌদ্ধ” সমাজের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা  অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বিভিন্ন সচেতন বৌদ্ধ সম্প্রদায় ভিন্ন ভিন্ন ব্যানারে মানববন্ধনে অংশ নেন ।

আইনজীবি সুজন কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে, অধ্যাপক ড.জিনবোধি ভিক্ষু,  স্থপতি বিজয় তালুকদার, ডাঃ পরিতোষ বড়ুয়া, পরিবেশবাদী সুজন বড়ূয়া, অর্পিতা বড়ুয়া, লায়ন সমীরন বড়ুয়া , শিক্ষক বিশু কুমার বড়ুয়া,ব্যাংকার রাজু বড়ুয়া, তন্ময় বড়ুয়া  ,অনিন্দ্য বড়ুয়া , আশুতোষ বড়ুয়া ,রোকেল বড়ুয়া , শুভ্রা বড়ুয়া, নির্মল কান্তি বড়ুয়া, রুপনা বড়ুয়া, রাজু বড়ুয়া, জনি বড়ুয়া, অর্পিতা বড়ুয়া, ইশা বড়ুয়া, শৈলি বড়ুয়া, সুজন বড়ুয়া, সুজন বড়ুয়া মামুন, সবুজ বড়ুয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, এই আইন টি একটি গাঁজাখুরি ও গোঁজামিল আইন। এই আইনে বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রধান গ্রন্থ ত্রিপিটক ও হাজার হাজার বছর ধরে বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি এবং প্রথাগত আইন কিছুই অনুসরণ করা হয়নি।

বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের বাদ দিয়ে আমরা কোন বৌদ্ধ পারিবারিক আইন চাইনা। জাতিকে অন্ধকারে রেখে আশংকায় রেখে আমরা কোন বৌদ্ধ পারিবারিক আইন চাইনা। সারাবিশ্বে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।  বৌদ্ধ পারিবারিক আইন নামের গোঁজামিল আইন দিয়ে সারাদেশের বৌদ্ধদেরকে সহিংস করে তুলতে চায়। নিজেদের মধ্যে হানাহানি ও মামলা দিয়ে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশে বৌদ্ধদের বাস্তুচ্যুত করতে চায়। লায়ন সমীরন বড়ুয়া বলেন, যাতে করে বৌদ্ধ ধর্মীয় স্বত্বাকে উপেক্ষা করা হয়েছে আর ভিন্ন ধর্মীয় কৃষ্টি কালচারকে যুক্ত করা হয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, এই আইন দেশে একবার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে আর বৌদ্ধ সমাজের হাজার বছরের শান্তির পরিবেশ ভূলুন্ঠিত হবে এবং দেশে বৌদ্ধদের অস্থিত্ব স্বল্পসময়ে বিলীন হয়ে যাবে। সরকার দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। আর এই দেশের বৌদ্ধদের জীবনাচরণকে দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে বৌদ্ধ সুরক্ষা আইন করতে পারেন। সমতলীয় ও পাহাড়ী বৌদ্ধদের বিভাজন করে বৌদ্ধ কৃষ্টি কালচারকে ভূলুন্ঠিত করে ভিন্ন ধর্মীয় চেতনায় উদ্ভদ্ধ হয়ে যে আইনটি প্রস্তাব করা হয়েছে সেই আইন দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে স্বল্প সময়ে বাস্তুহারা করবে।  দেশে আমরা বৌদ্ধরা বৌদ্ধ সমাজে বিদ্যমান বৌদ্ধ প্রথাগত নিয়ম ও রীতিনীতি মেনে অন্যান্য ধর্মের চেয়ে অনেক শান্তিতে আছি। বিদ্যমান বৌদ্ধ প্রচলিত নিয়মে কোন সমাজে হানাহানি, অন্যান্য ধর্মের সমাজের চেয়ে বৌদ্ধ সমাজে মামলার সংখ্যাও নগন্য। তাই আমাদের নতুন কোন আইন প্রয়োজন নাই।

মানববন্ধনে উক্ত প্রস্তাবিত ও বিতর্কিত আইনটি বাতিল করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান বক্তারা।