০৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পরলোকে পার্বত্য সংঘরাজ ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথের

  • ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট সময় ০৬:২৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০২৩
  • ৭৩০ বার পড়া হয়েছে

পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের মহামান্য ৪র্থ সংঘরাজ, এটি এন বাংলা কর্তৃক সাদা মনের মানুষ উপাধি প্রাপ্ত, মায়ানমার সরকার কর্তৃক “অগ্রমহাপন্ডিত ” এর ভূষিত, অনাথের পিতা,কাচালং শিশু সদনসহ বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তথা মগবান শাক্য মুনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ  ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথের (৮৬) আর নেই। (অনিচ্চা বত সাংখারা……..)

বৃহস্পতিবার ২ নভেম্বর রাত ১১.৫৫ মিনিটে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজ বিহারে নিয়ে যাওয়ার পথে পরলোকগমন করেন।

দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিসসহ কিডনি জটিলতায় রোগে ভুগছিলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি একটি বৃহত্তর উপজেলা।পাহাড়ী বৌদ্ধদের নিকট শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখেন উজ্জল নক্ষত্র সংঘরাজ তিলোকানন্দ মহাথের।১৯৮২ সালে সংঘরাজ ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথের মগবান শাক্যমনি বেীদ্ধ বিহারকে ভিত্তি করে “কাচালং শিশু সদন” প্রতিষ্ঠার মধ্য দিযে শিক্ষা বিস্তারের সূচনা করেন।তাঁর ঐকান্তিক শ্রদ্ধা,ভক্তি ও বিনম্র চিত্তে দান করা টাকা জমা করে রাখেন তীর্থ ভ্রমণ করার জন্য।টাকা জমা করতে করতে আনুমানিক ২০,০০০/= টাকা জমা হয।তিনি ভাবলেন এই টাকা দিযে যদি তীর্থ ভ্রমণে যাই তাহলে একবার মাত্র তীর্থ ভ্রমণ করা যাবে।আর যদি অনাথ,অসহায় শিশুদের আশ্রয়দানের জন্য অনাথলয় প্রতিষ্ঠা করি তাহলে বহু অনাথ শিশু আলোকিত জীবণ লাভ করবেন।এই মানসিকতা থেকে প্রথমে কয়েকজন অনাথশিশুকে নিয়ে “কাচালং শিশু সদন” অনাথ আশ্রমের সূচনা করেন।পার্বত্য চট্টগ্রামে গরীব,অনাথ ও অসহায় শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষায় প্রতিষ্ঠিত করার মানসে বেীদ্ধ বিহারের দেশনালয়ে গ্রামের কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা দিতে আরম্ভ করেন।দিন দিন শিশু সদনে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।ইতিমধ্য জমাকৃত টাকা শেষ হয়ে গেলে শিশু সদন পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে।এমতাবস্থায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় গ্রামে মুষ্ঠি ভিক্ষা প্রচলনের মাধ্যমে অনাথ শিশুদের ভরণপোষণ করেন।গ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণের সহযোগিতার ফলে শিশু সদনে পরিচালনায় গতি ফিরে আসে।এভাবে দীর্ঘ ৭/৮ বছর চলতে থাকে। শিশু সদনের নামে জায়গা না থাকায় সরকারী ভাবে অনুদান পাওয়ারও সম্ভব হচ্ছেনা।অতঃপর বিশিষ্ট সমাজ সেবক বাবু শরৎ কুমার চাকমা (কার্বারী)৮০(আশি) শতক জমি দান করেন।এরপর ১৯৯১ সালের ২৫ই জুলাই সমাজ কল্যাণ মণ্ত্রণালয অধীনে সরকারী নিবন্ধন লাভ করে পুরোদমে শিশু সদনের কাজ চলতে থাকে।এই শিশু সদনকে ভিত্তি করে মগবান সদ্ধর্ম্মোদয পালি টোল,বালুখালী নন্দসার পালি টোল,জীবঙ্গাছড়া পালি টোল ,কাচালং শিশু সদন মিনি হাসপাতাল,কাচালং সার্বজনীন বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র,লাল বিহারী স্মৃতি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন।সমাজের বিত্তবান,জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সমাজ সেবকের সাহায্যে-সহযোগিতায উচ্চ শিক্ষা প্রকল্প প্রচলন করে বৃত্তির ব্যবস্থা করেন।সমাজ ও সদ্ধর্মের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণপুরুষ,মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব ,সমাজ সংস্কারক,শিক্ষানুরাগী ,ত্যাগোদীপ্ত সাংঘিক পুরোধা এবং সাদা মনের মানুষ ,কর্মযোগী সংঘরাজ তিলোকানন্দ মহাথের একটি অনন্য নাম।

শ্রীমৎ তিলোকানন্দ মহাথের ১৯৩৭ সালের ২৮ আগস্ট শনিবার রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার অর্ন্তগত বরকল উপজেলাধীন শুভলং ইউনিয়নের বেতছড়ি গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।তাঁর বাল্য নাম লক্ষ্মী মোহন চাকমা ,পিতার নাম কৃষ্ণমুনি চাকমা,মাতার নাম শিঙা পুদি চাকমা।কিন্তু ভাগ্যর নির্মম পরিহাস তাঁর জন্মের এক বছর পর মাকে হারান।ছয় ভাই বোনের মধ্য তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।লারমা গোজা চাজ্জে গুত্থির প্রতিষ্ঠিত বংশের সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে আজ তিনি নন্দিত এবং ধন্য।পিতা কৃষ্ণমুনি চাকমা পুত্রের শিক্ষার প্রবল স্পৃহা দেখে স্থানীয় পাঠশালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন।শিক্ষক ছিলেন রাঙ্গুনীয়া থানা পাষ্যারিকুল গ্রামের কামিনী বড়ুয়া।তিনি একাই সর্ব পাঠ্য বিষয়ে পাঠদান করতেন।লেখাপড়ার প্রতি গভীর মনযোগ এবং অধ্যবসায় গুণে প্রতিটি ক্লাসে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে ছিলেন।উচ্চতর শিক্ষার জন্য হাইস্কুল এবং কলেজ অত্র এলাকায় ছিলনা বললেই চলে।পার্বত্য এলাকায়ও হাতেগোনা যে কয়েকটি স্কুল কলেজ গড়ে উঠেছে তা চাহিদা অনুসারে খুবই অপ্রতুল।নিজের গ্রামে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ না থাকায় জ্ঞান অন্বেষণে সেখান থেকে রাঙ্গুনিয়া রাজানগর রাজবিহারে গমন করেন।সেখানে তখন অধ্যক্ষ ছিলেন রাজগুরু শ্রীমৎ ধর্মরত্ন মহাথের।তরুণ শিক্ষানুরাগী তিলোকানন্দকে দেখে রাজগুরু অত্যন্ত মুগ্ধ হলেন এবং তাঁর ছত্রছায়ায় রেখে লেখাপড়া করার জন্য আশ্বস্ত করেন।বিহারের পাশে রাজানগর হাইস্কুল।তরুণ তিলোকানন্দকে উচ্চ শিক্ষার্থে অত্র স্কুলে ভর্তি করে দেন।তিনি সেখানে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত কৃতিত্বের সাথে পাঠ শেষ করেন।১৯৫৬ সালে ১৯ বছর বয়সে শুভলং ইন্দ্রমাছড়া বৌদ্ধ বিহারের সুযোগ্য প্রজ্ঞাসার থের”র নিকট প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন।তখন গুরু তাঁর নাম রাখেন সুমনুসার শ্রামণ।তিনি গুরুর সান্নিধ্য থেকে দুই বছর ধর্ম বিনয় শিক্ষা করেন।১৯৫৯ সালে ২২ বছর বয়সে শুভ উপসম্পদা লাভ করেন।তাঁর উপাধ্যায় গুরু ছিলেন শ্রীমৎ আচারানন্দ মহাথের।প্রব্রজ্যা গ্রহণ করার পর মহাসংঘনায়ক রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথের ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন,বৌদ্ধ মনীষা ,সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার দশম সংঘরাজ ,পণ্ডিত জ্যোতিপাল মহাথের’র তত্ত্বাবধানে ত্রিপিটক শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।বাংলাদেশ সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ড ,ঢাকা-এর অধৗনে সুত্ত উপাধি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সহিত উত্তীর্ণ হন।১৯৭৩ সালে মগবান শাক্যমুনি বেীদ্ধ বিহারে অধ্যক্ষ হিসেবে আগমন করেন।এর পূর্বে তিনি কমলছড়ি আম্রকানন বেীদ্ধ বিহারে অবস্থান করেন।২০০৭ সালে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃক “সাদামনের মানুষ” নির্বাচিত হয়ে স্বর্ণপদক পুরষ্কার প্রাপ্ত হন।২০১১ সালে সংঘরাজ সুগতপ্রিয় মহাস্থবিরের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপ-সংঘরাজ পদে অভিষিক্ত হন।বাঘাইছড়ি উপজেলায় একসময় তিনজন মহান ভিক্ষুর পদচারণায় মুখর ছিল।তাঁরা হলেন ২য় সংঘরাজ প্রয়াত শ্রীমৎ সুগতপ্রিয় মহাথের,৩য় সংঘরাজ প্রয়াত শ্রীমৎ অভয়তিষ্য মহাথের এবং সংঘরাজ সাদামনের মানুষ শ্রীমৎ তিলোকানন্দ মহাথের। সমাজের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস,কুসংস্কার দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তাঁরা।
শ্রদ্ধেয় গুরুদেব তিলোকানন্দ মহাথের চাকমা বেীদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে একজন দৃঢ় বির্যবান ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব।তিনি খুবই সহজ সরল।ছেলেমেয়ে ,বয়স্ক সকল শ্রেণীর লোকদের আপন করে নিতেন।তার বড় পরিচয় হচ্ছে তিনি একজন নিষ্ঠাবান নিবেদিত প্রাণ সমাজ সংস্কারক।

তিলোকানন্দ মহাথেরর অন্যতম স্মরণীয় কৃতিত্ব হচ্ছে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ গঠনে ভূমিকা পালন ও কাচালং শিশু সদন প্রতিষ্ঠা।প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ব্যতীত মানুষের জীবন সমাজ যে প্রকৃত প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না,এই আদর্শে তিলোকানন্দ মহাথের সারা জীবন অনুপ্রাণিত।তাই তিনি ভিবিন্ন স্থানে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান,সমাজ ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।তাঁর প্রতিষ্ঠানে আদর্শে গড়া অনেক ছাত্র-ছাত্রী দেশে বিদেশে নানা পেশায় জড়িত রয়েছে।তিনি উচ্চ শিক্ষিত না হলেও তাঁর জ্ঞান পাণ্ডিত্য গভীর ।একাডেমিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান অপরিসীম।তাই তাকে নিঃসন্দেহে বলা যায় শিক্ষায় আলোকবর্তিকা।গুরুদেব তিলোকানন্দ মহাথের পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের গৌরব,অহংকার,পাহাড়ী বেীদ্ধদের পথ প্রদর্শক।সাধারণ শিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক কোনোরূপ উচ্চ অভিধা না থাকলেও তিলোকানন্দ মহাথের বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন অধ্যপনায় অত্যন্ত অনন্য অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী।তিলোকানন্দ মহাথের’র আজ দেশে বিদেশে অসংখ্য শিষ্য রয়েছেন।যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে দিকপাল।তিনি ছিন্নমূল ,দরিদ্র,অসহায় ও অনাথ শিশুদের আশ্রয়দাতা।তাঁর প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য অনাথ শিশুদের আশ্রয় দিয়ে লেখাপড়া করার সুব্যবস্থা করেছেন।তাই অসংখ্য অনাথ শিশুদের পিতা-মাতার মুখে হাসি ফোঁটাচ্ছেন ।
বৌদ্ধদের সাধনা হল ব্রক্ষ্মবিহারে উন্নীত হওয়ার সাধনা,এটাকে আবার আদর্শ জীবনও বলা হয়।এই আদর্শ জীবন গঠনের জন্য বিশেষ কিছু গুণাবলী অর্জন করতে হয়।সেগুলি হল মৈত্রী,করুণা,মুদিতা ও উপেক্ষা।মাননীয় সংঘরাজ তিলোকানন্দ মহাথের’র জীবন কর্ম পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তিনি এসব গুণাবলৗর অধিকারৗ।তিনি মৈত্রী পরায়ণ ,সকলের প্রতি মৈত্রী পোষণ করেন এতে জাতি,ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ নাই।তিনি সকল মানুষকে ভালোবাসেন পরম মমতায়,কাছে তুলে নেন এই মৈত্রীই মানুষের মনকে পবিত্র ও প্রশান্ত করে,দূরকে নিকট করে,পরকে আপন করে।
রবীন্দ্রনাথের ভাষায়-
“কত অজানারে জানাইলে বন্ধু,কত ঘরে দিলে ঠাঁই
দূরকে করিলে নিকট,বন্ধু পরকে করিলে ভাই।”
মাননীয় সংঘরাজ তিলোকানন্দ মহাথের অপ্রমত্ত চৈতন্যের সৃষ্টিশীল প্রেরণায় উদীপ্ত এক মানবতাবাদী ভিক্ষু ব্যক্তিত্বের নাম।তিনি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ছাড়াও একজন নিবেদিত পরহিতৈষী ও অতিথি পরায়ণ সমাজসেবক।

তিনি পিতৃমাতৃহীন দুঃস্থ,অনাথ ও গরীব ছেলেমেয়েদের আশ্রয় ও শিক্ষা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।তিনি যুক্তিবাদী,ক্ষান্তিবাদী,মানবতাবাদী,ক্ষমাপরায়ণ এক আদর্শ ও আলোকিত ব্যক্তিত্ব।একাধারে তিনি সাংঘিক ব্যক্তিত্ব,সমাজকর্মী,সুবক্তা,সংগঠক,শিক্ষক,বিনয়ধারী,অনাথপিতা।ফলে তাকে কোনো একটি সুনির্দিষ্ট অভিধায় ভূষিত করা কঠিন।কিন্তু এ ঋদ্ধ পুরুষ কখনো নিজেকে প্রকাশ করেননি।সম্ভবত,সৃষ্টি সার্থক হোক –এ ছিল তার মানস কামনা।একারণে হয়তো অসংখ্য সৃষ্টির মাঝেও তিনি নিজেকে আড়াল করে রাখতেন এবং নীরব থাকতেন।ফলে সুধি সমাজ তাঁর বৈচিত্রময় সৃজনশীল জীবনের নানা দিক ও কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে অপরিচিত।তিনি একজন ভিক্ষু হলেও সমাজ বির্নিমানে তাঁর ছিল্ ঐকান্তিক ইচ্ছা।ব্যক্তির সাথে সমাজের গভীর এবং নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।সমাজের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা দেয়া যায় না।তবে এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে-সামাজিক জীব ও কা্র্বলীর সমষ্টিই সমাজ।ম্যাকাইভার এর মতে,সমাজ অর্থ সহযোগিতা,সমাজ অর্থ পারস্পরিক সৃজনশীল এবং সহযোগিতা।
মহামান্য ৩য় সংঘরাজ ভদন্ত অভয়তিষ্য মহাথের প্রয়াত হওয়ায় সংঘরাজ পদটি শূণ্য হয়।বিগত ১০,১১ ও ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ তিন দিনব্যাপী মহাসমারোহে জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের মাধ্যমে প্রয়াত ভান্তেকে বিদায় দেওয়া হয়।অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মূল অনুষ্ঠান ১১ ডিসেম্বর তিন শতাধিক ভিক্ষু সংঘ এবং কয়েক হাজার পূণ্যার্থীদের সমাবেশে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ এর বর্তমান সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের উপসংঘরাজ ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথেরকে সংঘরাজ এবং ভিক্ষু সংঘের প্রাক্তন সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরকে উপসংঘরাজ হিসেবে ঘোষনা করেন।২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার রাঙামাটি’র তবলছড়ি আনন্দ বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংঘরাজ ও উপসংঘরাজকে অভিষিক্ত করা হয়।উৎসবে মুখর হয়ে ওঠে গোটা আনন্দ বিহার এলাকা।অনুষ্ঠানে শতাধিক বৌদ্ধভিক্ষু সহ অগণিত পূণ্যার্থী ও বেীদ্ধ ধর্মাবলম্বীর সমাগম ঘটে।পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ এর সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের’র সবাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক পার্বত্য উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান,সাবেক যুগ্ম জেলা জজ অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান,রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা সহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ,পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ বাংলাদেশ এর সাধারন সম্পাদক ভদন্ত শুভদর্শী মহাথের। তথ্য – সংগ্রহ

শেয়ার করুন
আরও সংবাদ দেখুন

সীবলী কো-অপারেটিভ সোসাইটি’র শুভ উদ্ভোধন

পরলোকে পার্বত্য সংঘরাজ ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথের

আপডেট সময় ০৬:২৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০২৩

পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের মহামান্য ৪র্থ সংঘরাজ, এটি এন বাংলা কর্তৃক সাদা মনের মানুষ উপাধি প্রাপ্ত, মায়ানমার সরকার কর্তৃক “অগ্রমহাপন্ডিত ” এর ভূষিত, অনাথের পিতা,কাচালং শিশু সদনসহ বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তথা মগবান শাক্য মুনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ  ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথের (৮৬) আর নেই। (অনিচ্চা বত সাংখারা……..)

বৃহস্পতিবার ২ নভেম্বর রাত ১১.৫৫ মিনিটে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজ বিহারে নিয়ে যাওয়ার পথে পরলোকগমন করেন।

দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিসসহ কিডনি জটিলতায় রোগে ভুগছিলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি একটি বৃহত্তর উপজেলা।পাহাড়ী বৌদ্ধদের নিকট শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখেন উজ্জল নক্ষত্র সংঘরাজ তিলোকানন্দ মহাথের।১৯৮২ সালে সংঘরাজ ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথের মগবান শাক্যমনি বেীদ্ধ বিহারকে ভিত্তি করে “কাচালং শিশু সদন” প্রতিষ্ঠার মধ্য দিযে শিক্ষা বিস্তারের সূচনা করেন।তাঁর ঐকান্তিক শ্রদ্ধা,ভক্তি ও বিনম্র চিত্তে দান করা টাকা জমা করে রাখেন তীর্থ ভ্রমণ করার জন্য।টাকা জমা করতে করতে আনুমানিক ২০,০০০/= টাকা জমা হয।তিনি ভাবলেন এই টাকা দিযে যদি তীর্থ ভ্রমণে যাই তাহলে একবার মাত্র তীর্থ ভ্রমণ করা যাবে।আর যদি অনাথ,অসহায় শিশুদের আশ্রয়দানের জন্য অনাথলয় প্রতিষ্ঠা করি তাহলে বহু অনাথ শিশু আলোকিত জীবণ লাভ করবেন।এই মানসিকতা থেকে প্রথমে কয়েকজন অনাথশিশুকে নিয়ে “কাচালং শিশু সদন” অনাথ আশ্রমের সূচনা করেন।পার্বত্য চট্টগ্রামে গরীব,অনাথ ও অসহায় শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষায় প্রতিষ্ঠিত করার মানসে বেীদ্ধ বিহারের দেশনালয়ে গ্রামের কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা দিতে আরম্ভ করেন।দিন দিন শিশু সদনে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।ইতিমধ্য জমাকৃত টাকা শেষ হয়ে গেলে শিশু সদন পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে।এমতাবস্থায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় গ্রামে মুষ্ঠি ভিক্ষা প্রচলনের মাধ্যমে অনাথ শিশুদের ভরণপোষণ করেন।গ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণের সহযোগিতার ফলে শিশু সদনে পরিচালনায় গতি ফিরে আসে।এভাবে দীর্ঘ ৭/৮ বছর চলতে থাকে। শিশু সদনের নামে জায়গা না থাকায় সরকারী ভাবে অনুদান পাওয়ারও সম্ভব হচ্ছেনা।অতঃপর বিশিষ্ট সমাজ সেবক বাবু শরৎ কুমার চাকমা (কার্বারী)৮০(আশি) শতক জমি দান করেন।এরপর ১৯৯১ সালের ২৫ই জুলাই সমাজ কল্যাণ মণ্ত্রণালয অধীনে সরকারী নিবন্ধন লাভ করে পুরোদমে শিশু সদনের কাজ চলতে থাকে।এই শিশু সদনকে ভিত্তি করে মগবান সদ্ধর্ম্মোদয পালি টোল,বালুখালী নন্দসার পালি টোল,জীবঙ্গাছড়া পালি টোল ,কাচালং শিশু সদন মিনি হাসপাতাল,কাচালং সার্বজনীন বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র,লাল বিহারী স্মৃতি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন।সমাজের বিত্তবান,জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সমাজ সেবকের সাহায্যে-সহযোগিতায উচ্চ শিক্ষা প্রকল্প প্রচলন করে বৃত্তির ব্যবস্থা করেন।সমাজ ও সদ্ধর্মের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণপুরুষ,মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব ,সমাজ সংস্কারক,শিক্ষানুরাগী ,ত্যাগোদীপ্ত সাংঘিক পুরোধা এবং সাদা মনের মানুষ ,কর্মযোগী সংঘরাজ তিলোকানন্দ মহাথের একটি অনন্য নাম।

শ্রীমৎ তিলোকানন্দ মহাথের ১৯৩৭ সালের ২৮ আগস্ট শনিবার রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার অর্ন্তগত বরকল উপজেলাধীন শুভলং ইউনিয়নের বেতছড়ি গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।তাঁর বাল্য নাম লক্ষ্মী মোহন চাকমা ,পিতার নাম কৃষ্ণমুনি চাকমা,মাতার নাম শিঙা পুদি চাকমা।কিন্তু ভাগ্যর নির্মম পরিহাস তাঁর জন্মের এক বছর পর মাকে হারান।ছয় ভাই বোনের মধ্য তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।লারমা গোজা চাজ্জে গুত্থির প্রতিষ্ঠিত বংশের সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে আজ তিনি নন্দিত এবং ধন্য।পিতা কৃষ্ণমুনি চাকমা পুত্রের শিক্ষার প্রবল স্পৃহা দেখে স্থানীয় পাঠশালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন।শিক্ষক ছিলেন রাঙ্গুনীয়া থানা পাষ্যারিকুল গ্রামের কামিনী বড়ুয়া।তিনি একাই সর্ব পাঠ্য বিষয়ে পাঠদান করতেন।লেখাপড়ার প্রতি গভীর মনযোগ এবং অধ্যবসায় গুণে প্রতিটি ক্লাসে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে ছিলেন।উচ্চতর শিক্ষার জন্য হাইস্কুল এবং কলেজ অত্র এলাকায় ছিলনা বললেই চলে।পার্বত্য এলাকায়ও হাতেগোনা যে কয়েকটি স্কুল কলেজ গড়ে উঠেছে তা চাহিদা অনুসারে খুবই অপ্রতুল।নিজের গ্রামে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ না থাকায় জ্ঞান অন্বেষণে সেখান থেকে রাঙ্গুনিয়া রাজানগর রাজবিহারে গমন করেন।সেখানে তখন অধ্যক্ষ ছিলেন রাজগুরু শ্রীমৎ ধর্মরত্ন মহাথের।তরুণ শিক্ষানুরাগী তিলোকানন্দকে দেখে রাজগুরু অত্যন্ত মুগ্ধ হলেন এবং তাঁর ছত্রছায়ায় রেখে লেখাপড়া করার জন্য আশ্বস্ত করেন।বিহারের পাশে রাজানগর হাইস্কুল।তরুণ তিলোকানন্দকে উচ্চ শিক্ষার্থে অত্র স্কুলে ভর্তি করে দেন।তিনি সেখানে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত কৃতিত্বের সাথে পাঠ শেষ করেন।১৯৫৬ সালে ১৯ বছর বয়সে শুভলং ইন্দ্রমাছড়া বৌদ্ধ বিহারের সুযোগ্য প্রজ্ঞাসার থের”র নিকট প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন।তখন গুরু তাঁর নাম রাখেন সুমনুসার শ্রামণ।তিনি গুরুর সান্নিধ্য থেকে দুই বছর ধর্ম বিনয় শিক্ষা করেন।১৯৫৯ সালে ২২ বছর বয়সে শুভ উপসম্পদা লাভ করেন।তাঁর উপাধ্যায় গুরু ছিলেন শ্রীমৎ আচারানন্দ মহাথের।প্রব্রজ্যা গ্রহণ করার পর মহাসংঘনায়ক রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথের ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন,বৌদ্ধ মনীষা ,সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার দশম সংঘরাজ ,পণ্ডিত জ্যোতিপাল মহাথের’র তত্ত্বাবধানে ত্রিপিটক শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।বাংলাদেশ সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ড ,ঢাকা-এর অধৗনে সুত্ত উপাধি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সহিত উত্তীর্ণ হন।১৯৭৩ সালে মগবান শাক্যমুনি বেীদ্ধ বিহারে অধ্যক্ষ হিসেবে আগমন করেন।এর পূর্বে তিনি কমলছড়ি আম্রকানন বেীদ্ধ বিহারে অবস্থান করেন।২০০৭ সালে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃক “সাদামনের মানুষ” নির্বাচিত হয়ে স্বর্ণপদক পুরষ্কার প্রাপ্ত হন।২০১১ সালে সংঘরাজ সুগতপ্রিয় মহাস্থবিরের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপ-সংঘরাজ পদে অভিষিক্ত হন।বাঘাইছড়ি উপজেলায় একসময় তিনজন মহান ভিক্ষুর পদচারণায় মুখর ছিল।তাঁরা হলেন ২য় সংঘরাজ প্রয়াত শ্রীমৎ সুগতপ্রিয় মহাথের,৩য় সংঘরাজ প্রয়াত শ্রীমৎ অভয়তিষ্য মহাথের এবং সংঘরাজ সাদামনের মানুষ শ্রীমৎ তিলোকানন্দ মহাথের। সমাজের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস,কুসংস্কার দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তাঁরা।
শ্রদ্ধেয় গুরুদেব তিলোকানন্দ মহাথের চাকমা বেীদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে একজন দৃঢ় বির্যবান ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব।তিনি খুবই সহজ সরল।ছেলেমেয়ে ,বয়স্ক সকল শ্রেণীর লোকদের আপন করে নিতেন।তার বড় পরিচয় হচ্ছে তিনি একজন নিষ্ঠাবান নিবেদিত প্রাণ সমাজ সংস্কারক।

তিলোকানন্দ মহাথেরর অন্যতম স্মরণীয় কৃতিত্ব হচ্ছে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ গঠনে ভূমিকা পালন ও কাচালং শিশু সদন প্রতিষ্ঠা।প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ব্যতীত মানুষের জীবন সমাজ যে প্রকৃত প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না,এই আদর্শে তিলোকানন্দ মহাথের সারা জীবন অনুপ্রাণিত।তাই তিনি ভিবিন্ন স্থানে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান,সমাজ ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।তাঁর প্রতিষ্ঠানে আদর্শে গড়া অনেক ছাত্র-ছাত্রী দেশে বিদেশে নানা পেশায় জড়িত রয়েছে।তিনি উচ্চ শিক্ষিত না হলেও তাঁর জ্ঞান পাণ্ডিত্য গভীর ।একাডেমিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান অপরিসীম।তাই তাকে নিঃসন্দেহে বলা যায় শিক্ষায় আলোকবর্তিকা।গুরুদেব তিলোকানন্দ মহাথের পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের গৌরব,অহংকার,পাহাড়ী বেীদ্ধদের পথ প্রদর্শক।সাধারণ শিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক কোনোরূপ উচ্চ অভিধা না থাকলেও তিলোকানন্দ মহাথের বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন অধ্যপনায় অত্যন্ত অনন্য অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী।তিলোকানন্দ মহাথের’র আজ দেশে বিদেশে অসংখ্য শিষ্য রয়েছেন।যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে দিকপাল।তিনি ছিন্নমূল ,দরিদ্র,অসহায় ও অনাথ শিশুদের আশ্রয়দাতা।তাঁর প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য অনাথ শিশুদের আশ্রয় দিয়ে লেখাপড়া করার সুব্যবস্থা করেছেন।তাই অসংখ্য অনাথ শিশুদের পিতা-মাতার মুখে হাসি ফোঁটাচ্ছেন ।
বৌদ্ধদের সাধনা হল ব্রক্ষ্মবিহারে উন্নীত হওয়ার সাধনা,এটাকে আবার আদর্শ জীবনও বলা হয়।এই আদর্শ জীবন গঠনের জন্য বিশেষ কিছু গুণাবলী অর্জন করতে হয়।সেগুলি হল মৈত্রী,করুণা,মুদিতা ও উপেক্ষা।মাননীয় সংঘরাজ তিলোকানন্দ মহাথের’র জীবন কর্ম পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তিনি এসব গুণাবলৗর অধিকারৗ।তিনি মৈত্রী পরায়ণ ,সকলের প্রতি মৈত্রী পোষণ করেন এতে জাতি,ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ নাই।তিনি সকল মানুষকে ভালোবাসেন পরম মমতায়,কাছে তুলে নেন এই মৈত্রীই মানুষের মনকে পবিত্র ও প্রশান্ত করে,দূরকে নিকট করে,পরকে আপন করে।
রবীন্দ্রনাথের ভাষায়-
“কত অজানারে জানাইলে বন্ধু,কত ঘরে দিলে ঠাঁই
দূরকে করিলে নিকট,বন্ধু পরকে করিলে ভাই।”
মাননীয় সংঘরাজ তিলোকানন্দ মহাথের অপ্রমত্ত চৈতন্যের সৃষ্টিশীল প্রেরণায় উদীপ্ত এক মানবতাবাদী ভিক্ষু ব্যক্তিত্বের নাম।তিনি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ছাড়াও একজন নিবেদিত পরহিতৈষী ও অতিথি পরায়ণ সমাজসেবক।

তিনি পিতৃমাতৃহীন দুঃস্থ,অনাথ ও গরীব ছেলেমেয়েদের আশ্রয় ও শিক্ষা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।তিনি যুক্তিবাদী,ক্ষান্তিবাদী,মানবতাবাদী,ক্ষমাপরায়ণ এক আদর্শ ও আলোকিত ব্যক্তিত্ব।একাধারে তিনি সাংঘিক ব্যক্তিত্ব,সমাজকর্মী,সুবক্তা,সংগঠক,শিক্ষক,বিনয়ধারী,অনাথপিতা।ফলে তাকে কোনো একটি সুনির্দিষ্ট অভিধায় ভূষিত করা কঠিন।কিন্তু এ ঋদ্ধ পুরুষ কখনো নিজেকে প্রকাশ করেননি।সম্ভবত,সৃষ্টি সার্থক হোক –এ ছিল তার মানস কামনা।একারণে হয়তো অসংখ্য সৃষ্টির মাঝেও তিনি নিজেকে আড়াল করে রাখতেন এবং নীরব থাকতেন।ফলে সুধি সমাজ তাঁর বৈচিত্রময় সৃজনশীল জীবনের নানা দিক ও কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে অপরিচিত।তিনি একজন ভিক্ষু হলেও সমাজ বির্নিমানে তাঁর ছিল্ ঐকান্তিক ইচ্ছা।ব্যক্তির সাথে সমাজের গভীর এবং নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।সমাজের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা দেয়া যায় না।তবে এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে-সামাজিক জীব ও কা্র্বলীর সমষ্টিই সমাজ।ম্যাকাইভার এর মতে,সমাজ অর্থ সহযোগিতা,সমাজ অর্থ পারস্পরিক সৃজনশীল এবং সহযোগিতা।
মহামান্য ৩য় সংঘরাজ ভদন্ত অভয়তিষ্য মহাথের প্রয়াত হওয়ায় সংঘরাজ পদটি শূণ্য হয়।বিগত ১০,১১ ও ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ তিন দিনব্যাপী মহাসমারোহে জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের মাধ্যমে প্রয়াত ভান্তেকে বিদায় দেওয়া হয়।অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মূল অনুষ্ঠান ১১ ডিসেম্বর তিন শতাধিক ভিক্ষু সংঘ এবং কয়েক হাজার পূণ্যার্থীদের সমাবেশে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ এর বর্তমান সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের উপসংঘরাজ ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথেরকে সংঘরাজ এবং ভিক্ষু সংঘের প্রাক্তন সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরকে উপসংঘরাজ হিসেবে ঘোষনা করেন।২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার রাঙামাটি’র তবলছড়ি আনন্দ বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংঘরাজ ও উপসংঘরাজকে অভিষিক্ত করা হয়।উৎসবে মুখর হয়ে ওঠে গোটা আনন্দ বিহার এলাকা।অনুষ্ঠানে শতাধিক বৌদ্ধভিক্ষু সহ অগণিত পূণ্যার্থী ও বেীদ্ধ ধর্মাবলম্বীর সমাগম ঘটে।পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ এর সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের’র সবাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক পার্বত্য উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান,সাবেক যুগ্ম জেলা জজ অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান,রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা সহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ,পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ বাংলাদেশ এর সাধারন সম্পাদক ভদন্ত শুভদর্শী মহাথের। তথ্য – সংগ্রহ