০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শিল্পীর তুলিতে বুদ্ধের ‘নির্বাণ’ অনুসন্ধান

  • ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট সময় ০১:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪
  • ৬১৩ বার পড়া হয়েছে

তালপাতায় আঁকা গৌতম বুদ্ধের জীবনচক্র। বুদ্ধকে কেউ এঁকেছেন পটচিত্র-রিকশা পেইন্টিংয়ে। তাঁকে পাওয়া গেল মৃৎশিল্পে কিংবা ভাস্কর্যে। এমন নানা মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের ৪২ জন শিল্পীর তুলিতে ফুটে উঠেছে বুদ্ধর দর্শন।

সোমবার (২০মে)  ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে ‘জীবনে নির্বাণ অনুসন্ধান: বাংলার বুদ্ধ’ শীর্ষক প্রদর্শনী উদ্বোধনের দিনে এসব চিত্র দেখা যায়। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে এই আয়োজন করেছে প্রাচ্য-চিত্রকলা অনুশীলন সংঘ। বুদ্ধকে নিয়ে নিয়মিত বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর এটি দ্বিতীয় পর্ব।

এ ছাড়া মঙ্গলবার বিকেলে রয়েছে প্রাচীন বাংলার পোড়ামাটি ফলক শিল্পে বৌদ্ধ জনজীবন শীর্ষক শিল্পালোচনা। আলোচক থাকবেন ড. নীরু শামসুন্নাহার। পরের দিন বিকেলে থাকবে ভাবনগর ফাউন্ডেশনের বাউল-ফকিরদের অংশগ্রহণে প্রাচীন বাংলার বৌদ্ধ গান চর্যাপদ পরিবেশন।  প্রদর্শনীর উদ্বোধনীতে ছিল আলোচনা অনুষ্ঠান। সেখানে প্রধান অতিথি সিলেট বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সংঘানন্দ মহাথেরো বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একটা ধারণা আছে যে, ভারতবর্ষের যে শিল্পকলা আমরা ইউরোপের সঙ্গে তুলনা করতে পারি না। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি হরপ্পা মহেঞ্জোদারো সভ্যতায় বুদ্ধের দর্শনের চিহ্ন দেখতে পাই। প্রশ্ন জাগতে পারে আড়াই হাজার বছর আগের সভ্যতায় বুদ্ধ কীভাবে এলেন। তাদের বলে রাখি, বুদ্ধের আগেও অনেক বুদ্ধ এসেছেন। বুদ্ধ সে কথা বলেও গেছেন। তিনি নতুন করে কোনো ধর্ম আনেননি। আগের বুদ্ধদের কথাই তিনি উপস্থাপন করেছেন। বুদ্ধ ও মহাবীর এই দুই মহান ব্যক্তি এই সাব কন্টিনেন্ট বা জম্বুদ্বীপে এত বেশি অহিংসা প্রচার করেছেন যে বাংলাদেশ-ভারত এই অঞ্চলে আর হিংসা কেউ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।’

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক ফ্রাঁসোয়া ঘ্রোঁজো বলেন, ‘আমরা এটা যদি প্রতিবছর করতে পারি তাহলে খুব ভালো হয়। খুবই ধন্যবাদ এই আয়োজনের জন্য।’

বিশেষ অতিথি ভাবনগর সাধু সংঘের সভাপতি বাংলা একাডেমির ডেপুটি ডিরেক্টর সায়মন জাকারিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রাচীনতম আত্মপরিচয়ের জায়গা বুদ্ধের দর্শন। আমাদের দুঃখের বিষয় বুদ্ধের সাধনা ও দর্শনজাত শিল্পচর্চা হারিয়ে গেছে। অন্য অনেক দেশে বুদ্ধ দর্শনকে কেন্দ্র করে শিল্পকলা চর্চা হচ্ছে। বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো বুদ্ধের দর্শন নিয়ে যে আয়োজন করা হয়েছে তাঁর জন্য অভিনন্দন জানাই। তবে এবারের আয়োজন ডায়নামিক। কারণ বুদ্ধ দর্শন শুধু চিত্রকলায় সীমাবদ্ধ নয়। গান, নাটকেও চর্চা হয়েছে। আমরা যদি লালনের গান দেখি সেখানে বুদ্ধ দর্শনকে পাওয়া যায়। শুধু তাই নয় আমাদের সাধক লেখক সেই চর্যাপদের কবিরা বুদ্ধ দর্শনকে নিয়ে লিখেছিলেন। আমরা বুদ্ধ দর্শনকে বাংলাদেশের সাধারণ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

 আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শিল্পী মলয় বালা। প্রদর্শনী কিউরেট করেছেন মিখাইল আল ইসলাম। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন।

শেয়ার করুন
আরও সংবাদ দেখুন

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শিল্পীর তুলিতে বুদ্ধের ‘নির্বাণ’ অনুসন্ধান

আপডেট সময় ০১:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

তালপাতায় আঁকা গৌতম বুদ্ধের জীবনচক্র। বুদ্ধকে কেউ এঁকেছেন পটচিত্র-রিকশা পেইন্টিংয়ে। তাঁকে পাওয়া গেল মৃৎশিল্পে কিংবা ভাস্কর্যে। এমন নানা মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের ৪২ জন শিল্পীর তুলিতে ফুটে উঠেছে বুদ্ধর দর্শন।

সোমবার (২০মে)  ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে ‘জীবনে নির্বাণ অনুসন্ধান: বাংলার বুদ্ধ’ শীর্ষক প্রদর্শনী উদ্বোধনের দিনে এসব চিত্র দেখা যায়। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে এই আয়োজন করেছে প্রাচ্য-চিত্রকলা অনুশীলন সংঘ। বুদ্ধকে নিয়ে নিয়মিত বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর এটি দ্বিতীয় পর্ব।

এ ছাড়া মঙ্গলবার বিকেলে রয়েছে প্রাচীন বাংলার পোড়ামাটি ফলক শিল্পে বৌদ্ধ জনজীবন শীর্ষক শিল্পালোচনা। আলোচক থাকবেন ড. নীরু শামসুন্নাহার। পরের দিন বিকেলে থাকবে ভাবনগর ফাউন্ডেশনের বাউল-ফকিরদের অংশগ্রহণে প্রাচীন বাংলার বৌদ্ধ গান চর্যাপদ পরিবেশন।  প্রদর্শনীর উদ্বোধনীতে ছিল আলোচনা অনুষ্ঠান। সেখানে প্রধান অতিথি সিলেট বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সংঘানন্দ মহাথেরো বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একটা ধারণা আছে যে, ভারতবর্ষের যে শিল্পকলা আমরা ইউরোপের সঙ্গে তুলনা করতে পারি না। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি হরপ্পা মহেঞ্জোদারো সভ্যতায় বুদ্ধের দর্শনের চিহ্ন দেখতে পাই। প্রশ্ন জাগতে পারে আড়াই হাজার বছর আগের সভ্যতায় বুদ্ধ কীভাবে এলেন। তাদের বলে রাখি, বুদ্ধের আগেও অনেক বুদ্ধ এসেছেন। বুদ্ধ সে কথা বলেও গেছেন। তিনি নতুন করে কোনো ধর্ম আনেননি। আগের বুদ্ধদের কথাই তিনি উপস্থাপন করেছেন। বুদ্ধ ও মহাবীর এই দুই মহান ব্যক্তি এই সাব কন্টিনেন্ট বা জম্বুদ্বীপে এত বেশি অহিংসা প্রচার করেছেন যে বাংলাদেশ-ভারত এই অঞ্চলে আর হিংসা কেউ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।’

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক ফ্রাঁসোয়া ঘ্রোঁজো বলেন, ‘আমরা এটা যদি প্রতিবছর করতে পারি তাহলে খুব ভালো হয়। খুবই ধন্যবাদ এই আয়োজনের জন্য।’

বিশেষ অতিথি ভাবনগর সাধু সংঘের সভাপতি বাংলা একাডেমির ডেপুটি ডিরেক্টর সায়মন জাকারিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রাচীনতম আত্মপরিচয়ের জায়গা বুদ্ধের দর্শন। আমাদের দুঃখের বিষয় বুদ্ধের সাধনা ও দর্শনজাত শিল্পচর্চা হারিয়ে গেছে। অন্য অনেক দেশে বুদ্ধ দর্শনকে কেন্দ্র করে শিল্পকলা চর্চা হচ্ছে। বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো বুদ্ধের দর্শন নিয়ে যে আয়োজন করা হয়েছে তাঁর জন্য অভিনন্দন জানাই। তবে এবারের আয়োজন ডায়নামিক। কারণ বুদ্ধ দর্শন শুধু চিত্রকলায় সীমাবদ্ধ নয়। গান, নাটকেও চর্চা হয়েছে। আমরা যদি লালনের গান দেখি সেখানে বুদ্ধ দর্শনকে পাওয়া যায়। শুধু তাই নয় আমাদের সাধক লেখক সেই চর্যাপদের কবিরা বুদ্ধ দর্শনকে নিয়ে লিখেছিলেন। আমরা বুদ্ধ দর্শনকে বাংলাদেশের সাধারণ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

 আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শিল্পী মলয় বালা। প্রদর্শনী কিউরেট করেছেন মিখাইল আল ইসলাম। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন।