০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অনাত্মতা এবং মৈত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট সময় ০৪:২১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুলাই ২০২৩
  • ১০৪৬ বার পড়া হয়েছে

মহান ভিক্ষু থিচ নাট হ্যানের সাথে একটি সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ

সুধী পাঠকরা পড়ে উপকৃত হবেন
স্বাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন: মেলভিন ম্যাকলিওড
সম্পাদক – Lion’s Roar
বঙ্গানুবাদ: সমীর বড়ুয়া

শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীর এবং চেতনার মৌলিক জায়গায় নিবিষ্ট হওয়া কেন আমাদের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর:

ধ্যান করা মানে নিজের ঘরে ফিরে আসা। তখন আপনি জানবেন যে আপনার ভিতরে কি ঘটছে, কিভাবে তার যত্ন নিতে হবে। একইসাথে আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোর যত্ন নেয়ার উপায়ও আপনি জানবেন। ধ্যানের পুরো অনুশীলনটা আপনাকে আপনার সত্যিকারের বাড়িতে, নিজের কাছে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে। নিজের মধ্যে শান্তি পুনরুদ্ধার না করে, অন্তর্জগতে শান্তভাব ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট না হয়ে আপনি অনুশীলনে খুব বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারবেন না। সেজন্যেই ধ্যানে নিবিষ্ট হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২য় প্রশ্ন:
“নিজের ঘরে ফিরে আসা”র সাথে আমরা সাধারণত নিজেদের সম্পর্কে যা ভাবি — তার পার্থক্য কোথায়?

উত্তর:

আমরা সাধারণত নিজেদের এক একটি পৃথক সত্তা হিসেবে ভাবি। সত্যিকারের নিজ হলো অ-স্ব অর্থাৎ স্ব-বিহীন। সচেতনতা হলো সেই অ-স্ব উপাদানকে বুঝা বা জানা। নিজের এবং অন্যের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই এবং সবকিছুই পরস্পর নির্ভরশীল। একবার কেউ সচেতন হয়ে গেলে আর এই ধারণায় ধরা পড়েন না যে তিনি একটি পৃথক সত্তা।

৩য় প্রশ্ন:

যখন আপনি নিজে উপলব্ধি করেন যে নিজের আসল প্রকৃতি হলো অ-স্ব, তখন আপনার মধ্যে কেমন অনুভূতি জাগে?

উত্তর:

এটি অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে আসে। যখন কেউ জানেন যে তাঁর সুখ এবং দুঃখ অন্যের সুখ এবং দুঃখের উপর নির্ভর করে। এই অন্তর্দৃষ্টি তাঁকে এমন ভুল কাজ না করতে সাহায্য করে – যা তাঁর এবং অন্য লোকেদের জন্য দুঃখকষ্ট নিয়ে আসবে। আপনি যদি আপনার বাবাকে কম কষ্ট পেতে সহযোগিতা করেন তবে আপনার কষ্ট কম হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আপনি যদি আপনার ছেলেকে কম কষ্ট পেতে সাহায্য করতে পারেন, তাহলে একজন বাবা হিসেবে আপনিও কম কষ্ট পাবেন। কোন পৃথক সত্তা নেই। আপনি উপলব্ধি করুন যে সুখ এবং দুঃখ ব্যক্তিগত বিষয় নয়। আপনি আন্তঃসম্পর্কের স্বভাব বা প্রকৃতি দেখুন এবং আপনি বুঝতে চেষ্টা করুন যে নিজেকে রক্ষা করার জন্য আপনাকে আপনার চারপাশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। নিজেকে ভালবাসাই হচ্ছে অন্য মানুষকে ভালবাসার ভিত্তি।

যেমন মৈত্রীভাবনা। মৈত্রী একটি চর্চার বিষয়। এটি অনুশীলনের লক্ষ্য হলো অনাত্মতা এবং আন্তঃ সংযুক্ততা উপলব্ধি করা। এটি শুধুমাত্র একটি ধারণা হিসেবে বা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে জানার বিষয় নয়, দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগের বিষয়। তাই অ-স্ব-এর (অনাত্মতার) এই অন্তর্দৃষ্টি বজায় রাখার জন্য একাগ্রতা প্রয়োজন, যাতে অনুশীলনকারীকে এটি প্রতিটি মুহূর্তে সেই দিকে পরিচালিত করতে পারে। আজকাল বিজ্ঞানীরাও মস্তিষ্কে, শরীরে, সবকিছুতে অ-স্ব প্রকৃতি দেখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই দেখা তাঁদের ব্যবহারিক জীবনে কোন কাজে আসে না। কারণ তাঁরা সেই অন্তর্দৃষ্টি তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করেননা। তাই তাঁরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বৌদ্ধধর্মে একাগ্রতার কথা বলা হয়েছে। কারো মধ্যে যদি অনাত্মতার অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত হয়, অ-নিত্যতার অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত হয়, তবে সেই অন্তর্দৃষ্টিকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া উচিত যাতে তিনি সর্বক্ষণ সেটা জাগ্রত রাখতে পারেন। তখন তিনি যা ভাববেন, যা বলবেন, যা করবেন সবকিছু সেই প্রজ্ঞার আলোকে হবে এবং তিনি ভুল করা, দুঃখ-কষ্ট সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকবেন।

৪র্থ প্রশ্ন:

তাহলে একাগ্রতার অনুশীলন কি সর্বদা অনাত্মতা এবং আন্তঃসংযুক্ততার অন্তর্দৃষ্টি বজায় রাখার চেষ্টা করা?

উত্তর:

হ্যাঁ অবশ্যই। আমরা নিজেদের মানুষ বলে দাবি করি। আমরা মৈত্রী দিতে চাই; মৈত্রী পেতে চাই। আমরা ভালবাসা দিতে চাই; ভালবাসা পেতে চাই। আমরা জানি যে মৈত্রী হল এমন ওষুধ যা সমস্ত রোগ নিরাময় করে। কিন্তু আমরা কীভাবে আমাদের হৃদয়ে মৈত্রী এবং ভালবাসা জাগাবো? প্রায়শই আমরা তা পারি না। মৈত্রীপরায়ণ হওয়া বা ভালবাসা ছড়িয়ে দেয়াটা হচ্ছে সেগুলোর যত্ন নেয়া, রক্ষা করা, লালন করা। কেউ যদি নিজের প্রতি সে ধরণের শক্তি তৈরি করতে সক্ষম না হন – যদি নিজের যত্ন নিতে, নিজেকে পুষ্টি দিতে, নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম না হন, অন্য ব্যক্তির যত্ন নেয়া খুব কঠিন। বৌদ্ধ শিক্ষায়, এটা স্পষ্ট যে নিজেকে ভালবাসা হচ্ছে অন্য মানুষকে ভালবাসার ভিত্তি। মৈত্রী একটি অনুশীলনের বিষয়, সত্যিকার অর্থে অনুশীলনের বিষয়।

৫ম প্রশ্ন:

কেন আমরা সত্যিকার অর্থে নিজেদের প্রতি মৈত্রীপরায়ণ হইনা বা নিজেদের ভালোবাসি না?

উত্তর:

আমাদের এখন, এখানে বা অন্য কোথাও বিনা আয়াসে সুখ খোঁজার স্বভাবের কারণে। আমাদের উপলব্ধি করার ক্ষমতার অভাব রয়েছে যে – এখানে এবং এখন সুখ অনুভব করা সম্ভব, তবে কিছু শর্ত পরিপূরণ করা সাপেক্ষে। অভ্যাস এবং অনুশীলনের শক্তি হল এটা অনুভব করা যে— এখন সুখ অনুভব করার জন্য কিছু শর্ত পুরন করতে হবে আমাদের। অর্থাৎ নিবিঢ় অনুশীলনের দিকে ছুটতে হবে। গভীর নিষ্ঠার সাথে অনুশীলনে নিযুক্ত না থাকলে আমাদেরকে বর্তমান মুহুর্তে প্রতিষ্ঠিত হতে, এখানে এবং এখন পাওয়া জীবনের বিস্ময়গুলোর সাথে সংযুক্ত থাকতে বাধা দেয়, যে জন্যে আমরা এখন সুখ অনুভব করতে পারিনা। বর্তমান মুহুর্তে নিজ ঘরে তথা অন্তর্জগতে যাওয়া, নিজের যত্ন নেয়া ইত্যাদি জীবনের বিস্ময়কর বিষয়গুলোর সাথে সংযুক্ত থাকার মানে হলো নিজেকে ভালবাসা, নিজের প্রতি সদয় হওয়া, নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, আনন্দের ক্ষেত্র তৈরি করা এবং সকলের দিকে সমতা ও বৈষম্যহীন দৃষ্টিতে তাকানো, যে অনুশীলনের মাধ্যমে অনাত্মভাব অর্জন করা যায়। এভাবে ধীরে ধীরে অনুভব করা যেতে পারে যে সত্যের অনুশীলন করা সম্ভব।

যখন কেউ কিছু আবিষ্কার করেন, শুরুতে তিনি এটির একটি অংশ আবিষ্কার করেন। তিনি কাজটি চালিয়ে গেলে, আবিষ্কারের পরবর্তী ধাপে পৌঁছার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অবশেষে তিনি পুরো জিনিসটাই আবিষ্কার করতে সক্ষম হবেন। অনুরূপভাবে আপনি যখন অন্যের প্রতি মৈত্রী পরায়ণ হবেন, অন্যকে ভালোবাসবেন, যদি আপনার মৈত্রী চেতনা এবং ভালোবাসা সত্যি হয়, আপনি দেখতে শুরু করবেন যে, অন্য ব্যক্তিটি আপনার একটি অংশ এবং আপনি তার একটি অংশ। এভাবে অনাত্মতার অনুভূতি স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। আপনি যদি মনে করেন যে আপনার সুখ অন্যের সুখ থেকে আলাদা, তাহলে আপনি অনাত্মতার কিছুই দেখতে পাবেননা এবং সুখও পাওয়া যাবে না।

সুতরাং অ-স্ব এর (অনাত্মতার) অন্তর্দৃষ্টির পথে অগ্রসর হবার সাথে সাথে মৈত্রীর দ্বারা অর্জিত সুখ বৃদ্ধি পাবে। যখন মানুষ একে অপরকে ভালবাসে, একে অপরের প্রতি মৈত্রীপরায়ণ হন, তখন তাঁদের মধ্যে পার্থক্যের সীমানা বিলীন হতে শুরু করে এবং তাঁরা এক হয়ে যায়। তখন কোন হিংসা বা রাগের অস্তিত্ব থাকেনা। কারণ তারা যদি অন্য ব্যক্তির উপর রাগ করে তবে তারা নিজের উপর রাগ করে। অনাত্মতা একটি তত্ত্ব, একটি মতবাদ বা একটি আদর্শ নয়। এটি একটি উপলব্ধি —- যা অনেক সুখ নিয়ে আসতে পারে। আর শান্তি হল বিভেদের অনুপস্থিতি, বৈষম্যের অবসান।

৬ষ্ট প্রশ্ন:

আপনি আপনার কমিউনিটি —- যাকে বৌদ্ধ ধর্মে সংঘ বলা হয় তাঁদের শিক্ষার জন্য বিখ্যাত। মাইন্ডফুলনেস ট্রেনিং বা স্মৃতি-ভাবনা অনুশীলনের মাধ্যমে, আপনি স্মৃতি (সতি)কে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করেন যা সামাজিক, এমনকি রাজনৈতিকও। আপনি যোগাযোগের কৌশল, গভীর শ্রবণশক্তি এবং মৈত্রীপূর্ণ কথা বলার শিক্ষা দেন। এসব ক্ষেত্রে কেন আপনি সংঘ এবং আন্তঃব্যক্তিক দিকের উপর জোর দেন?

উত্তর:

ধরুন, ভাবনা অনুশীলন বা চর্চার ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা আছে, শান্তি, আনন্দ, পরিবর্তন, অগ্রগতি এসব বিষয়ে অন্য লোকেদের অনুপ্রানিত করার এবং নির্দেশনা দেয়ার মতো জ্ঞান বা পরিপক্ষতা আপনার কাছে আছে। তখন আপনি কেবল একজন ব্যক্তি হিসাবে বা আলাদাভাবে অনুশীলন করবেন না। আপনি খুব শীঘ্রই বুঝতে পারবেন যে, পরিবর্তন এবং অগ্রগতি অধিকতর দ্রুত ঘটাতে হলে আপনার উচিত হবে সংঘ বা দলের সাথে অনুশীলন করা। এটাই হলো সংঘের আশ্রয় গ্রহণ।

অন্যদের সাথে অনুশীলন ভাগ করে নেয়ার ক্ষেত্রে, স্মৃতি, একাগ্রতা এবং আনন্দের অনুভূতি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। বুদ্ধ সেটাই করতে পছন্দ করতেন। তিনি যেখানেই যেতেন, অনেক ভিক্ষু তাঁর সাথে থাকতেন এবং ভিক্ষুরা তাঁর চলাফেরা, বসা এবং মানুষের সাথে যোগাযোগ করার পদ্ধতি থেকে অনেক কিছু শিখতে পারতেন। ফলে দ্রুত ভিক্ষুসংঘ একটি একক সত্বার মতো আচরণ করতে শুরু করেন। প্রত্যেক ভিক্ষু, সংঘের সাথে লীন হয়ে শান্তি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের একক শক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।

সংঘের প্রত্যেকেই শুধুমাত্র তাদের কথার দ্বারা নয় বরং তারা যেভাবে কাজ করেন এবং তারা যেভাবে মানুষের সাথে আচরণ করেন তার দ্বারা বুদ্ধের কথারই প্রতিফলন ঘটাতেন। সেজন্যেই রাজা প্রসেঞ্জিত বুদ্ধকে বলেছিলেন, “তথাগত, আমি যতবারই আপনার প্রত্যেকটি ভিক্ষু ও ভিক্ষু সংঘকে দেখি, ততবারই আপনার প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস জাগ্রত হয়।” তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে সংঘ বুদ্ধের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম। আবার সংঘের সাথে বুদ্ধও অনেক কিছু অর্জন করতে পারেন। আমি মনে করি—- একজন শিক্ষক তাঁর শিষ্য সম্প্রদায় সমন্বয়ে অনেক কিছু করতে পারেন। সংঘ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকের অন্তর্দৃষ্টি এবং অনুশীলন সংঘের মাধ্যমে বিকশিত হতে দেখা যায়। আপনি যখন সংঘের একজন হিসেবে অনুশীলন এবং শিক্ষাদানে অংশ নেবেন তখন এটি অনেক শক্তিশালী প্রভাব ফেলবে। তাই ধর্ম অনুশীলনের কার্যকারিতা সত্যিকার অর্থে ছড়িয়ে দেয়ার জন্যে আমাদের শুধু নিজেদের নয়, বাস্তবে সমাজকে তথা সংঘকেও সম্পৃক্ত করতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে।

৭ম প্রশ্ন:

আপনি কি মনে করেন যে আপনার অনুশীলনের ক্ষেত্রে ভিক্ষুসংঘ এবং সমাজের উপর জোর দেয়ার একটি কারণ হল —- আপনি একটি ভয়ানক সংঘাত আপনার নিজের দেশ ভিয়েতনামে দেখেছেন। যুদ্ধের দ্বারা ধ্বংস হওয়া একটি সমাজকে দেখে, ভয়ানক চ্যালেঞ্জের সাথে জড়িত দেখে, সংঘ তথা সমাজ জীবনের জন্য আপনার মধ্যে অত্যধিক উদ্বেগ কাজ করে?

উত্তর:

আমি মনে করি এটা কিছুটা সত্য। আপনি যখন বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তখন আপনি যে অন্তর্দৃষ্টি পান তা হল এটি। কিন্তু এখানে বৌদ্ধ ঐতিহ্যের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। আমরা বলি, “সংঘং সরণং গচ্ছামি”, আমি সংঘের শরণ বা আশ্রয় নিচ্ছি। সঙ্ঘ ব্যক্তিগত অনুশীলনকারীদের দ্বারা গঠিত। তাই প্রথমে নিজের যত্ন নিতে হবে। অন্যথায় আপনার সংঘে অবদান রাখার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা গড়ে উঠবেনা। তাই নিজের হৃদয়কে যথেষ্ট শান্ত, সংহত এবং মুক্ত অনুভব করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে। সেজন্যে একটি ভালো সংঘ গড়ে তুলতে হলে একই সঙ্গে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। বুঝতে হবে, সংঘ আপনার মধ্যে এবং আপনি সংঘের মধ্যে বিদ্যমান, একে অপরের মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়া। সেজন্য আমি সাংঘিক অনুশীলনের ওপর জোর দিই। এর মানে এই নয় যে আপনি নিজের অনুশীলনকে অবহেলা করবেন। নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের, নিজের শরীরের, নিজের অনুভূতির ভাল যত্ন নেয়ার মাধ্যমে আপনি একটি ভাল সংঘ গড়ে তুলতে পারবেন।

শেয়ার করুন
আরও সংবাদ দেখুন

অনাত্মতা এবং মৈত্রী

আপডেট সময় ০৪:২১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুলাই ২০২৩

মহান ভিক্ষু থিচ নাট হ্যানের সাথে একটি সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ

সুধী পাঠকরা পড়ে উপকৃত হবেন
স্বাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন: মেলভিন ম্যাকলিওড
সম্পাদক – Lion’s Roar
বঙ্গানুবাদ: সমীর বড়ুয়া

শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীর এবং চেতনার মৌলিক জায়গায় নিবিষ্ট হওয়া কেন আমাদের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর:

ধ্যান করা মানে নিজের ঘরে ফিরে আসা। তখন আপনি জানবেন যে আপনার ভিতরে কি ঘটছে, কিভাবে তার যত্ন নিতে হবে। একইসাথে আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোর যত্ন নেয়ার উপায়ও আপনি জানবেন। ধ্যানের পুরো অনুশীলনটা আপনাকে আপনার সত্যিকারের বাড়িতে, নিজের কাছে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে। নিজের মধ্যে শান্তি পুনরুদ্ধার না করে, অন্তর্জগতে শান্তভাব ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট না হয়ে আপনি অনুশীলনে খুব বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারবেন না। সেজন্যেই ধ্যানে নিবিষ্ট হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২য় প্রশ্ন:
“নিজের ঘরে ফিরে আসা”র সাথে আমরা সাধারণত নিজেদের সম্পর্কে যা ভাবি — তার পার্থক্য কোথায়?

উত্তর:

আমরা সাধারণত নিজেদের এক একটি পৃথক সত্তা হিসেবে ভাবি। সত্যিকারের নিজ হলো অ-স্ব অর্থাৎ স্ব-বিহীন। সচেতনতা হলো সেই অ-স্ব উপাদানকে বুঝা বা জানা। নিজের এবং অন্যের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই এবং সবকিছুই পরস্পর নির্ভরশীল। একবার কেউ সচেতন হয়ে গেলে আর এই ধারণায় ধরা পড়েন না যে তিনি একটি পৃথক সত্তা।

৩য় প্রশ্ন:

যখন আপনি নিজে উপলব্ধি করেন যে নিজের আসল প্রকৃতি হলো অ-স্ব, তখন আপনার মধ্যে কেমন অনুভূতি জাগে?

উত্তর:

এটি অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে আসে। যখন কেউ জানেন যে তাঁর সুখ এবং দুঃখ অন্যের সুখ এবং দুঃখের উপর নির্ভর করে। এই অন্তর্দৃষ্টি তাঁকে এমন ভুল কাজ না করতে সাহায্য করে – যা তাঁর এবং অন্য লোকেদের জন্য দুঃখকষ্ট নিয়ে আসবে। আপনি যদি আপনার বাবাকে কম কষ্ট পেতে সহযোগিতা করেন তবে আপনার কষ্ট কম হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আপনি যদি আপনার ছেলেকে কম কষ্ট পেতে সাহায্য করতে পারেন, তাহলে একজন বাবা হিসেবে আপনিও কম কষ্ট পাবেন। কোন পৃথক সত্তা নেই। আপনি উপলব্ধি করুন যে সুখ এবং দুঃখ ব্যক্তিগত বিষয় নয়। আপনি আন্তঃসম্পর্কের স্বভাব বা প্রকৃতি দেখুন এবং আপনি বুঝতে চেষ্টা করুন যে নিজেকে রক্ষা করার জন্য আপনাকে আপনার চারপাশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। নিজেকে ভালবাসাই হচ্ছে অন্য মানুষকে ভালবাসার ভিত্তি।

যেমন মৈত্রীভাবনা। মৈত্রী একটি চর্চার বিষয়। এটি অনুশীলনের লক্ষ্য হলো অনাত্মতা এবং আন্তঃ সংযুক্ততা উপলব্ধি করা। এটি শুধুমাত্র একটি ধারণা হিসেবে বা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে জানার বিষয় নয়, দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগের বিষয়। তাই অ-স্ব-এর (অনাত্মতার) এই অন্তর্দৃষ্টি বজায় রাখার জন্য একাগ্রতা প্রয়োজন, যাতে অনুশীলনকারীকে এটি প্রতিটি মুহূর্তে সেই দিকে পরিচালিত করতে পারে। আজকাল বিজ্ঞানীরাও মস্তিষ্কে, শরীরে, সবকিছুতে অ-স্ব প্রকৃতি দেখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই দেখা তাঁদের ব্যবহারিক জীবনে কোন কাজে আসে না। কারণ তাঁরা সেই অন্তর্দৃষ্টি তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করেননা। তাই তাঁরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বৌদ্ধধর্মে একাগ্রতার কথা বলা হয়েছে। কারো মধ্যে যদি অনাত্মতার অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত হয়, অ-নিত্যতার অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত হয়, তবে সেই অন্তর্দৃষ্টিকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া উচিত যাতে তিনি সর্বক্ষণ সেটা জাগ্রত রাখতে পারেন। তখন তিনি যা ভাববেন, যা বলবেন, যা করবেন সবকিছু সেই প্রজ্ঞার আলোকে হবে এবং তিনি ভুল করা, দুঃখ-কষ্ট সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকবেন।

৪র্থ প্রশ্ন:

তাহলে একাগ্রতার অনুশীলন কি সর্বদা অনাত্মতা এবং আন্তঃসংযুক্ততার অন্তর্দৃষ্টি বজায় রাখার চেষ্টা করা?

উত্তর:

হ্যাঁ অবশ্যই। আমরা নিজেদের মানুষ বলে দাবি করি। আমরা মৈত্রী দিতে চাই; মৈত্রী পেতে চাই। আমরা ভালবাসা দিতে চাই; ভালবাসা পেতে চাই। আমরা জানি যে মৈত্রী হল এমন ওষুধ যা সমস্ত রোগ নিরাময় করে। কিন্তু আমরা কীভাবে আমাদের হৃদয়ে মৈত্রী এবং ভালবাসা জাগাবো? প্রায়শই আমরা তা পারি না। মৈত্রীপরায়ণ হওয়া বা ভালবাসা ছড়িয়ে দেয়াটা হচ্ছে সেগুলোর যত্ন নেয়া, রক্ষা করা, লালন করা। কেউ যদি নিজের প্রতি সে ধরণের শক্তি তৈরি করতে সক্ষম না হন – যদি নিজের যত্ন নিতে, নিজেকে পুষ্টি দিতে, নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম না হন, অন্য ব্যক্তির যত্ন নেয়া খুব কঠিন। বৌদ্ধ শিক্ষায়, এটা স্পষ্ট যে নিজেকে ভালবাসা হচ্ছে অন্য মানুষকে ভালবাসার ভিত্তি। মৈত্রী একটি অনুশীলনের বিষয়, সত্যিকার অর্থে অনুশীলনের বিষয়।

৫ম প্রশ্ন:

কেন আমরা সত্যিকার অর্থে নিজেদের প্রতি মৈত্রীপরায়ণ হইনা বা নিজেদের ভালোবাসি না?

উত্তর:

আমাদের এখন, এখানে বা অন্য কোথাও বিনা আয়াসে সুখ খোঁজার স্বভাবের কারণে। আমাদের উপলব্ধি করার ক্ষমতার অভাব রয়েছে যে – এখানে এবং এখন সুখ অনুভব করা সম্ভব, তবে কিছু শর্ত পরিপূরণ করা সাপেক্ষে। অভ্যাস এবং অনুশীলনের শক্তি হল এটা অনুভব করা যে— এখন সুখ অনুভব করার জন্য কিছু শর্ত পুরন করতে হবে আমাদের। অর্থাৎ নিবিঢ় অনুশীলনের দিকে ছুটতে হবে। গভীর নিষ্ঠার সাথে অনুশীলনে নিযুক্ত না থাকলে আমাদেরকে বর্তমান মুহুর্তে প্রতিষ্ঠিত হতে, এখানে এবং এখন পাওয়া জীবনের বিস্ময়গুলোর সাথে সংযুক্ত থাকতে বাধা দেয়, যে জন্যে আমরা এখন সুখ অনুভব করতে পারিনা। বর্তমান মুহুর্তে নিজ ঘরে তথা অন্তর্জগতে যাওয়া, নিজের যত্ন নেয়া ইত্যাদি জীবনের বিস্ময়কর বিষয়গুলোর সাথে সংযুক্ত থাকার মানে হলো নিজেকে ভালবাসা, নিজের প্রতি সদয় হওয়া, নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, আনন্দের ক্ষেত্র তৈরি করা এবং সকলের দিকে সমতা ও বৈষম্যহীন দৃষ্টিতে তাকানো, যে অনুশীলনের মাধ্যমে অনাত্মভাব অর্জন করা যায়। এভাবে ধীরে ধীরে অনুভব করা যেতে পারে যে সত্যের অনুশীলন করা সম্ভব।

যখন কেউ কিছু আবিষ্কার করেন, শুরুতে তিনি এটির একটি অংশ আবিষ্কার করেন। তিনি কাজটি চালিয়ে গেলে, আবিষ্কারের পরবর্তী ধাপে পৌঁছার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অবশেষে তিনি পুরো জিনিসটাই আবিষ্কার করতে সক্ষম হবেন। অনুরূপভাবে আপনি যখন অন্যের প্রতি মৈত্রী পরায়ণ হবেন, অন্যকে ভালোবাসবেন, যদি আপনার মৈত্রী চেতনা এবং ভালোবাসা সত্যি হয়, আপনি দেখতে শুরু করবেন যে, অন্য ব্যক্তিটি আপনার একটি অংশ এবং আপনি তার একটি অংশ। এভাবে অনাত্মতার অনুভূতি স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। আপনি যদি মনে করেন যে আপনার সুখ অন্যের সুখ থেকে আলাদা, তাহলে আপনি অনাত্মতার কিছুই দেখতে পাবেননা এবং সুখও পাওয়া যাবে না।

সুতরাং অ-স্ব এর (অনাত্মতার) অন্তর্দৃষ্টির পথে অগ্রসর হবার সাথে সাথে মৈত্রীর দ্বারা অর্জিত সুখ বৃদ্ধি পাবে। যখন মানুষ একে অপরকে ভালবাসে, একে অপরের প্রতি মৈত্রীপরায়ণ হন, তখন তাঁদের মধ্যে পার্থক্যের সীমানা বিলীন হতে শুরু করে এবং তাঁরা এক হয়ে যায়। তখন কোন হিংসা বা রাগের অস্তিত্ব থাকেনা। কারণ তারা যদি অন্য ব্যক্তির উপর রাগ করে তবে তারা নিজের উপর রাগ করে। অনাত্মতা একটি তত্ত্ব, একটি মতবাদ বা একটি আদর্শ নয়। এটি একটি উপলব্ধি —- যা অনেক সুখ নিয়ে আসতে পারে। আর শান্তি হল বিভেদের অনুপস্থিতি, বৈষম্যের অবসান।

৬ষ্ট প্রশ্ন:

আপনি আপনার কমিউনিটি —- যাকে বৌদ্ধ ধর্মে সংঘ বলা হয় তাঁদের শিক্ষার জন্য বিখ্যাত। মাইন্ডফুলনেস ট্রেনিং বা স্মৃতি-ভাবনা অনুশীলনের মাধ্যমে, আপনি স্মৃতি (সতি)কে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করেন যা সামাজিক, এমনকি রাজনৈতিকও। আপনি যোগাযোগের কৌশল, গভীর শ্রবণশক্তি এবং মৈত্রীপূর্ণ কথা বলার শিক্ষা দেন। এসব ক্ষেত্রে কেন আপনি সংঘ এবং আন্তঃব্যক্তিক দিকের উপর জোর দেন?

উত্তর:

ধরুন, ভাবনা অনুশীলন বা চর্চার ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা আছে, শান্তি, আনন্দ, পরিবর্তন, অগ্রগতি এসব বিষয়ে অন্য লোকেদের অনুপ্রানিত করার এবং নির্দেশনা দেয়ার মতো জ্ঞান বা পরিপক্ষতা আপনার কাছে আছে। তখন আপনি কেবল একজন ব্যক্তি হিসাবে বা আলাদাভাবে অনুশীলন করবেন না। আপনি খুব শীঘ্রই বুঝতে পারবেন যে, পরিবর্তন এবং অগ্রগতি অধিকতর দ্রুত ঘটাতে হলে আপনার উচিত হবে সংঘ বা দলের সাথে অনুশীলন করা। এটাই হলো সংঘের আশ্রয় গ্রহণ।

অন্যদের সাথে অনুশীলন ভাগ করে নেয়ার ক্ষেত্রে, স্মৃতি, একাগ্রতা এবং আনন্দের অনুভূতি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। বুদ্ধ সেটাই করতে পছন্দ করতেন। তিনি যেখানেই যেতেন, অনেক ভিক্ষু তাঁর সাথে থাকতেন এবং ভিক্ষুরা তাঁর চলাফেরা, বসা এবং মানুষের সাথে যোগাযোগ করার পদ্ধতি থেকে অনেক কিছু শিখতে পারতেন। ফলে দ্রুত ভিক্ষুসংঘ একটি একক সত্বার মতো আচরণ করতে শুরু করেন। প্রত্যেক ভিক্ষু, সংঘের সাথে লীন হয়ে শান্তি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের একক শক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।

সংঘের প্রত্যেকেই শুধুমাত্র তাদের কথার দ্বারা নয় বরং তারা যেভাবে কাজ করেন এবং তারা যেভাবে মানুষের সাথে আচরণ করেন তার দ্বারা বুদ্ধের কথারই প্রতিফলন ঘটাতেন। সেজন্যেই রাজা প্রসেঞ্জিত বুদ্ধকে বলেছিলেন, “তথাগত, আমি যতবারই আপনার প্রত্যেকটি ভিক্ষু ও ভিক্ষু সংঘকে দেখি, ততবারই আপনার প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস জাগ্রত হয়।” তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে সংঘ বুদ্ধের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম। আবার সংঘের সাথে বুদ্ধও অনেক কিছু অর্জন করতে পারেন। আমি মনে করি—- একজন শিক্ষক তাঁর শিষ্য সম্প্রদায় সমন্বয়ে অনেক কিছু করতে পারেন। সংঘ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকের অন্তর্দৃষ্টি এবং অনুশীলন সংঘের মাধ্যমে বিকশিত হতে দেখা যায়। আপনি যখন সংঘের একজন হিসেবে অনুশীলন এবং শিক্ষাদানে অংশ নেবেন তখন এটি অনেক শক্তিশালী প্রভাব ফেলবে। তাই ধর্ম অনুশীলনের কার্যকারিতা সত্যিকার অর্থে ছড়িয়ে দেয়ার জন্যে আমাদের শুধু নিজেদের নয়, বাস্তবে সমাজকে তথা সংঘকেও সম্পৃক্ত করতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে।

৭ম প্রশ্ন:

আপনি কি মনে করেন যে আপনার অনুশীলনের ক্ষেত্রে ভিক্ষুসংঘ এবং সমাজের উপর জোর দেয়ার একটি কারণ হল —- আপনি একটি ভয়ানক সংঘাত আপনার নিজের দেশ ভিয়েতনামে দেখেছেন। যুদ্ধের দ্বারা ধ্বংস হওয়া একটি সমাজকে দেখে, ভয়ানক চ্যালেঞ্জের সাথে জড়িত দেখে, সংঘ তথা সমাজ জীবনের জন্য আপনার মধ্যে অত্যধিক উদ্বেগ কাজ করে?

উত্তর:

আমি মনে করি এটা কিছুটা সত্য। আপনি যখন বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তখন আপনি যে অন্তর্দৃষ্টি পান তা হল এটি। কিন্তু এখানে বৌদ্ধ ঐতিহ্যের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। আমরা বলি, “সংঘং সরণং গচ্ছামি”, আমি সংঘের শরণ বা আশ্রয় নিচ্ছি। সঙ্ঘ ব্যক্তিগত অনুশীলনকারীদের দ্বারা গঠিত। তাই প্রথমে নিজের যত্ন নিতে হবে। অন্যথায় আপনার সংঘে অবদান রাখার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা গড়ে উঠবেনা। তাই নিজের হৃদয়কে যথেষ্ট শান্ত, সংহত এবং মুক্ত অনুভব করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে। সেজন্যে একটি ভালো সংঘ গড়ে তুলতে হলে একই সঙ্গে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। বুঝতে হবে, সংঘ আপনার মধ্যে এবং আপনি সংঘের মধ্যে বিদ্যমান, একে অপরের মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়া। সেজন্য আমি সাংঘিক অনুশীলনের ওপর জোর দিই। এর মানে এই নয় যে আপনি নিজের অনুশীলনকে অবহেলা করবেন। নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের, নিজের শরীরের, নিজের অনুভূতির ভাল যত্ন নেয়ার মাধ্যমে আপনি একটি ভাল সংঘ গড়ে তুলতে পারবেন।